মনোহরিনী পর্ব ৩ | HelpBangla.com
image
Homeরোমান্টিক গল্পমনোহরিনী পর্ব ৩
image

মনোহরিনী পর্ব ৩

👰

মনোহরিনী

👰 পর্ব ৩
written by 

Mehrima Sabnam Odri



মিহু কান্না করে দৌউরে আসতেই হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো । মিহু সামনে তাকাতেই দেখে আভনি ফ্লোরে মুখ চেপে ধরে বসে আছে। মিহু এসে আভনির কাঁধে হাত রাখতেই আভনি চমকে পেছন ফিরে তাকিয়েই তুমিইই?
মিহুঃ হুম আমি, তুমি এখানে একা, একা আর এভাবে বসে আছো কেনো? উঠো বলছি,,  মিহু আভনিকে হাত ধরে টেনে দাঁড় করালো।
মিহু ঃকই বললে না তো!! তুমি এভাবে এখানে কেনো বসে ছিলে?
আভনি ঃকি কিছু না এমনি 🙂আচ্ছা তুমি কি কারো জন্যে অপেক্ষা করছিলে বুঝি? 😊
মিহুু বুঝতে পেরছে আভনি ওর কথা টা চেপে গেলো । তাই মিহুও আর কিছু না বলে বললো হুম 😔
আভনি ঃতো! সে কি আসেনি?
মিহু মাথা নিচু করে খুব শান্ত গলায় বললো না 🙂
আভনি বুঝতে পারলো মিহুর খুব মন খারাপ । এদিকে আভনির ও ভীষণ দুশচিন্তা হচ্ছে, কিন্তু সেটা মিহুকে বুঝতে না দিয়ে মিহুর মন ভালো করতে মিহুর সাথে হেটে হেটে গল্প করতে করতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসলো। হেটে হেটে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির জন্যে।
আভনি এতক্ষন ধরে মিহুর সাথে গল্প করে মিহুকে খুব ভালো ফ্রেন্ডস বানিয়ে ফেলেছে। দুজনে দুজনার সব কিছু জেনে নিয়েছে। দুজনে একটা সিএনজি করে রওনা দিলো বাসার উদ্দেশ্যে।
কিছুদূর যেতেই মিহু তার বাসার মোড়ে এসে আভনির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নেমে গেল। 
অবশ্য মিহু আভনিকে তার বাসায় যাওয়ার জন্য অনেক করে বলেছিল কিন্তু আভনি আম্মুর ভয়ে যায় নি। এদিকে মিহু নেমে যাওয়ার পর আভনির একা একা যেতে ভয় ও লাগছে।
আভনি ঃ মামা একটু জোরে চালান প্লিজ,আভনির খুব ভয় করছে আভনি কোনেদিন ও এতরাতা পযন্ত বাসার বাহিরে থাকেনি। 
কেননা তার মা খুব ভয় তাকে নিয়ে, আভনির মা সবসময় আভনিকে সব দিক থেকে আভনিকে সেফ রাখতে চেস্টা করে। তাই কখনো তার মা সন্ধার পর তাকে বাসার বাহিরে রাখতে চায় না।
তার মধ্যে আজ রাত ৮ টা বাজে এটা সবার জন্য কিছু না হলেও আভনির কাছে অনেক রাত। কেননা আভনি সন্ধার পর কখনো বাসার বাহিরে থাকেনি। তার মধ্যে একা একা? সব ওই অমানুষটার জন্যই তো তার এই অবস্থা। আভনির কেমন যানো ভয় ভয় করছে।
আভনি এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ সামনে তাকাতেই দেখে ২ জন মাঝ বয়সি লোক তাদের গাড়ি আটকে সামনে দাড়িয়ে আছে।
আভনি কিছু বুঝে উঠার আগেই একটা লোক আভনির দিকে এগিয়ে আসলো।
👹 গাড়ির ড্রাইবার মামা বাঁধা দিতেই ২ য় লোকটি ড্রাইবার মামাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো।
আর ১ম লোকটি এসে আভনির হাত খামচে ধরে গাড়ি থেকে টেনে বের করলো।
আভনি ঃ কে আপনারা?
২য় লোকটা ঃ তোমার জান বেবি 😁
অাভনিঃপ্লিজ হাত ছাড়েন আমার, আমাকে বাসায় যেতে হবে আমার আম্মু চিন্তা করছে আমার জন্য প্লিজ আংকেল আপনারা আমাকে যেতে দিন 👏
১ম লোকটি ঃ যেতে দিবো তো! চলো বেবি তোমাকে দিয়ে আসি 😂
আভনি ঃ না আংকেল আমিই একাই যেতে পারবো। 
২য় লোকটি ঃ বলছি তো চলো আমরা তোমাকে তোমার বাসায় পৌঁছে দেই। নয়তো তোমাকে একা যেতে দিবো না।
আভনি নিরুপায় হয়ে লোক দুটুর সাথে যেতে রাজি হলো এছাড়া তো আর পথ নেই 😓
১ম লোকটি ড্রাইবার মামাকে সিটে বসিয়ে সে ড্রাইব করছে। ড্রাইবার মামা বাধা দিলে তাকে হুমকি দিয়ে বসিয়ে রাখে। আর ২য় লোকটি পেছনে এসে আমার পাশে বসলো। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম গাড়ি আমার বাসার রাস্তায় না গিয়ে উল্টো দিকে যাচ্ছে। ভয়ে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো আমি চিৎকার করে বললাম, আমি এই রাস্তায় যাবো না। আংকেল প্লিজ গাড়ি ঘুরান।
২য় লোকটি বলে উঠলো আমরা যে রাস্তায় নিবো গাড়ি সে রাস্তায় যাবে বলেই আমার মুখ চেপে ধরলেন।
তারা নির্ঝন একটা রাস্তায় এসে গাড়ি থামালেন। আমার পাশে লোকটা আমাকে গাড়ি থেকে আবার টেনে নামালান। আর ড্রাইমার মামাকে গাড়ি নিয়ে সামনে অপেক্ষা করতে বললেন। ড্রাইবার মামা অনেক জোরাজোরি করছে আমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্যে অবশেষে লোক দুটু বিরক্ত হয়ে ড্রাইবার মামাকে গাড়ির ভেতর হাত মুখ বেধে রাখলান। আর আমাকে টানতে টানতে একটু সামনের দিকে নির্ঝন একটা জায়গায় দাঁড় করালো। আমি চিৎকার করছি কিন্তু কেও শুনছে না।
তখন ২য় লোকটি ১ম লোকটির কাঁধে হাত রেখে বলতে লাগলো, আমিই সামনেই আছি, তুই ডাকিস পরে কেমন!!একথা বলেই আমার দিকে শয়তানরুপি হাসি দিয়ে চলে গেলো।
আমি ভয়ে ঘামতে লাগলাম খুব জোরে চিৎকার করতে লাগলাম ঠিক তখন ই আমার পেছন থেকে ১ম লোকটা আমার হাতের দু বাহুু চেপে ধরলো। তখন আমি চিৎকার থামিয়ে মনকে স্থির করলাম। সামনে তাকিয়ে দু হাতের কব্জি ক্রসের মতো করে দুই দিকে সোজা করলাম এরপর শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমার দুই হাতের কনুই দিয়ে লোকটার বুকে খুব জোরে আঘাত করলাম। ঠিক তখন ই লোকটা আমার হাত ছেরে দিয়ে বুকে হাত দিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়লো আর আমি সেই সুযোগে আমার পায়ের হিল দিয়ে লোকটার বুক বরাবর আঘাত করলাম। লোকটা লাথি খেয়ে ধড়ফড় করতে লাগলো। লোকটা চিৎকার করছে আর তার চিৎকার শুনে ২য় লোকটা আসতেই আমি লুকোতে চাইলাম ঠিক তখন ই সামনে মোটা একটা গাছের ডাল দেখি। আমি ভয়ে উওেজিত হয়ে গিয়েছিলাম তখনই ২য় লোকটা এদিকেই ছুটে আসছিলো আর আমি সামনে থাকা ডাল টা হাতে নিয়ে একটা গাছের নিচে লুকিয়ে পরি। যার জন্য লোকটা আমাকে দেখতে পায়নি। লোকটা যেই আমাকে ক্রস করে সামনে আগাবে ঠিক তখনই আমি লোকটার পেছন থেকে লোকটার ঘাড়ে ডালটা দিয়ে আঘাত করি, লোকটা আর পেছনে তাকাতে পারে না আরেক বার আঘাত করতেই লোকটা ধপাস করে উপুর হয়ে নিচে পরে যায় আর আমি সেই সুযোগে লোকটার মাথায় পিঠে, ঘাড়ে ইচ্ছা মতো পিটাতে থাকি। লোকটা বার বার সরি বলছিলো কিন্ত আমার মাথার রক্ত তখন টগবগিয়ে ফুটছিলো।
লোকটাকে মারতে মারতে এক সময় লোকটা মার খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
আর আমি সেই সুযোগে দৌউড়ে গাড়ির সামনে গিয়ে ড্রাইবার মামার মুখের, আর হাতের বাঁধন খুলে দেই। উনি আমাকে দেখে কান্না করে দেয়।
(((আমাদের সবার উচিত ছোট থেকেই মেয়েদের আত্নরক্ষার কৌশল শেখানো, যাতে করে তারা এরকম বিপর্যের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, এমন আক্রমনের শিকারের সময় উপস্থিত বুদ্ধি রাখা যাতে ঘাতকের উপস্থিত বুদ্ধি বিচক্ষণতা দিয়ে লড়তে পারে। এগুলা আমাদের দেশে শিখানো না হলেও বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোতে প্রতেকটা ছেলে -মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তাদের স্কুলে আগে নিজেকে আত্নরক্ষাকরন শিখানো হয় তাই ওরা আর যাই হোক আমাদের দেশের মেয়েদের মতো বাবার বয়সি ভাইয়ের বয়সি লোকের কাছে এভাবে ধর্ষিত হয় না)))
ড্রাইবার _ঃ মা তোমার কোথাও লাগে নি তো? ওরা তোমার কোনো ক্ষতি করে নি তো? মা।
আভনি ঃনা মামা ওরা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। এরপর সব খুলে বললাম। মামা আপনি প্লিজ তারাতারি গাড়ি স্টার্ট করেন।
ড্রাইবার তারাতারি গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ওখান থেকে চলে আসলো। ড্রাইবার মামা আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে চলে আসলো। আর বললো সাবধানে থেকোও। আমি তাকে বাসায় আসতে বলেছিলাম কিন্তু আসেনি।।।
সারাটা রাস্তা কান্না করতে করতে আসছি। বাসার সামনে দাড়িয়ে ভাবছি কিভাবে বাসায় ঢুকবো?
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১০ টা বাজে।আজকে আম্মুকে কিভাবে ফেস করবো?হয়তো জানা নেই।
চোখের জলটা মুছে খুব স্বাভাবিক হয়ে দরজায় বেল বাজালাম। দুবার দিতেই দরজা খুলে দিলো
সামনে তাকাতেই দেখি আম্মু রক্তবর্ন চোখে তাকিয়ে আছে। চোখমুখ ফুলে লাল হয়ে গেছে।
দেখেই বুঝা যাচ্ছে এতক্ষন ধরে কান্না করছে। আম্মু বলে দরজায় পা রাখতেই দু গালে ৩ টা থাপ্পড় পড়লো। ঝুক সামলাতে না পেরে দরজায় গিয়ে ধাক্কা খেলাম মাথা তুলতেই তরল কিছু অনুভব করলাম। মাথায় হাত দিতেই দেখি রক্ত। মাথা থেকে মুখ বেয়ে পরছে। এরপর আর কিছু মনে নেই।
রাত একটা বাজে। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি আম্মু আমার মাথার পাশে বসে মাথার ব্যান্ডেজ করে সেখানে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আর চোখ বেয়ে নোনা জল টপটপিয়ে পড়ছে। আমাকে দেখেই জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলো। আমিও কান্না করে দিলাম।
আম্মু ঃ খুব লেগেছে সোনা তাইনা? কোথায় গিয়েছিলি তুই. এতরাত পর্যন্ত তোর কোনো খবর পাই নি তুই জানিস আমি কি ভয় পেয়েছি?
তোর প্রত্যেক ফ্রেন্ডসের বাসায় খোঁজ নিয়েছি,কোথাও পাইনি তোকে!
! তুই জানিস তখন আমার কি হয়েছিলো? তুই ছাড়া আমার আর কে আছে বলতো? কেনো আজ এমন করলি আভনি? বল না? একটা বার ফোন করে তো জানাতে পারতি! বলেই আবার কান্না করতে লাগলো।

আভনি ঃ আম্মু কে কিছুই বললাম না 😶বললে আম্মু অনেক ঘাবরে যাবে। এমনিতেই আম্মু অনেক সহ্য করেছে তাই আজকে আর নতুন করে কিছু দিতে চাইনা। বলেই খুব ধির গলায় বললাম আম্মু?
কিভাবে বলবো? আমার তো ফোন নেই, তুমি তো আমাকে ফোন ইউস করতে দাওনা 😪আজকে আমার কাছে ফোন থাকলে তো আর এরকম হতো না আর তুমিও এতো কষ্ট পেতে না 😪
আম্মু ঃ😶
আভনি ঃআম্মু সবাই তো আর এক না বলো? আর তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না বলো? আম্মু।  আমি কখনোই তোমার বিশ্বাস ভাঙ্গবো না প্রমিস 😓।
আম্মু ঃআচছা কালকেই আমি তোকে ফোন এনে দিবো অকে? নাউ হ্যাপি 😊
আভনি ঃহুম অনেক। লাভিউ আম্মু 😘😊
আম্মু ঃথাক হয়েছে হয়েছে এখন হা করো তো খাবার খেয়ে নাও আমার পিচ্চি 😊
আভনি চুপচাপ আম্মুর হাতে খেয়ে নেয়।
আভনি ঃআম্মু অনেক রাত হয়েছে তুমি এখন ঘুমোতে যাও 😊
আম্মু ঃনা আজকে আমি আমার বাচ্চাটার সাথেই ঘুমাবো অকে🤷‍♀
আভনি ঃ😍অকে। মুচকি হেসে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো আভনি।
পরদিন সকালে
নীলের বোন নীরা সেই কখন থেকে নীলকে ডাকছে বাট নীল শুনছেই না।
নীরাঃভাইয়া উঠো ক্লাসে যাবানা? 
ভাইয়া!!! এবার কিন্তু আমি পানি ঢেলে দিবো গায়ে 🤨ভাইয়ায়ায়া দিলাম মুঘে পানি ঢেলে।
অমনি নীল ধড়মড়িয়ে উঠে বসলো 😵 নীলঃ নীরু কি এটা!! 
নীরা ঃসেই কখন থেকে ডাকছি তোমাকে,, কিন্তু তুমি তো উঠছিলেই না তাই বাধ্য হয়ে দিলাম পানি ঢেলে 😏সো তুমি ক্লাসে যাবা না?
নীল ঃঅহ হ্যা😰 আরো আগে ডাকিসনি কেনো? 🤨তুই যা আমি ফ্রেস হয়ে আসছি।
নীরা ঃওয়েট ওয়েট আমি যে এত কষ্ট করে জগে থেকে পানি ঢেলে তোমার মুখে ঢেলে ঘুম ভাঙ্গালাম তার কি হবে? হুম হুম 😡😡
নীল ঃ কি আর হবে 🤔
নীরাঃএখনি ৫০০ টাকা বের করো 😌
নীল ঃ কিহহহ😰
নীরা ঃদেখো দাড় করিয়ে রেখো না তাহলে এটার জন্যে ও আরো ৫০০ দিতে হবে আর না দিলে আম্মুকে কাছে গিয়ে মিথ্যা বলে বকা খাওয়াবো ☺
নীল ঃ কি বলবি 😂পানি খেতে খেতে
নীরা ঃবলবো ভাইয়া না! লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খায়😉
নীলের মুখ থেকে পানি ছিটকে পরে গেলো।
নীলঃকিহ কিহ বলছিস এগুলা 😰😵এইনে ধর ২০০ টাকা আর আসার সময় তোর জন্য এওোগুলা চকলেট নিয়ে আসবো কেমন 😊মিস্টি বোন আমার😞 এখন তুমি যাও কেমন 😌এই দাড়াও দাড়াও বলেই কপালে চুমু দিয়ে দিলো 😘
নীরা ঃতারাতারি রেডি হও কেমন নয়তো খবর আছে বলেই চলে গেলো
নীলঃ😳
নীল রেডি হয়ে নাস্তা খেয়ে রওনা দিলো ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। এবার নীলের পরিচয় টা দেয়া যাক।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মানিক চৌধুরীর ছেলে নীল। এবার অর্নাস ৩য় বর্ষের খু্ব ভালো ছাএ। একদম পারফেক্ট।😎 দেখতে খুব মিস্টি কিউট একটা ছেলে। 😌দেখলে যে কোনো মেয়েই ক্রাস খায় 😙যাই হোক নীল ক্লাস গিয়ে মেঘকে খুঁজতে লাগলো।
আভনি খাটের এক কোনে নীলের চিঠিটা হাতে নিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন। আভনি ভাবচ্ছে কালকের লোক দুটোর পিছনে নীলের কোনো হাত আছে। নীলই এসব করিয়েছে ঐ লোক দুটুকে দিয়ে। নীল কেনোই বা এসব করতে যাবে? এসব করে কি লাভ তার? তাছাড়া আভনি তো নীল কে চিনেও না। এসবের কিছুই বুঝতে পারছে না আভনি।
তখনই আভনির আম্মু রুমে আসলো ব্রেকফাস্ট নিয়ে 🍱🍝আভনিকে খাইয়ে মুখ মুছে দিলো।
আম্মু ঃ আভনি?
আভনি ঃ হুম
আম্মু ঃতোর কলেজের রেজাল্ট দিবে কবে?
আভনি ঃদিবে আম্মু একমাস পর।
আম্মু ঃওহ! তাহলে তুই রেস্ট নে, আমি কাজ করি।
দেখতে দেখতে ১ মাস চলে গেলো। এই একমাসে বাসা থেকে কোথাও বের হয়নি আভনি। না নীল আর আভনির কোনো দেখা হয়েছে।
আজ আভনির রেজাল্ট দেয়ার দিন। আভনি সেই সকাল থেকেই তৈরি হচ্ছে কলেজে যাবার জন্যে। আভনি আজকে গাঢ় করে নীল রংয়ের একটা জামা পরেছে চোখে মোটা করে কাজল লাগিয়েছে। হাতে নীল চুরি পরেছে। বাদামি রংয়ের চুলগুলোকে আজ ছেরে দিয়েছে। সব মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর লাগছে আভনি কে 😊ঠিক যেনো একটা নীল পরি 😌
আভনি তৈরি হয়ে পিহু কে ফোন দিলো।
আভনি ঃপিহু কই তুই?
পিহু ঃতুই বের হো আমি আসছি।
আভনি ঃ অকে বাই।
আভনি আম্মুকে বলে৷ বের হলো কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
এদিকে নীল ও নীরাকে নিয়ে বেরিয়ে পরলো নীরার কলেজের উদ্দেশ্যে। নীরা এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ার রে exam দিয়েছে। আর আজকে সেটার রেজাল্ট দিবে। তাই সে নীলকে নিয়ে রেজাল্ট আনতে কলেজে যাচ্ছে।
সবাই কলেজে স্টেজের সামনে বসে আছে একসাথে।
এবার রেজাল্ট ঘোষণার পালা।
প্রথমে কমার্স, এরপর আর্স, এরপর সাইন্সের রেজাল্ট ঘোষণা করবে।
আভনি প্রচুর ঘামছে কেননা এবার এক সাবজেক্ট এ কাটা গেলে ২য় বর্ষে উর্ওীন করবে না বলেছে।
এদিকে নীরা ও খুব চিন্তা করছে। 
নীলঃ কিরে এখনো তোর নাম বলছে না কেনো বলতো। 🙄
বলতে বলতেই নীরার নাম ঘোষণা করলো।  নীরা তো খুব খুশি 😃।
এদিকে আভনির নাম এখনো ঘোষণা করেনি পিহুর টা বলে দিয়েছে আ্ভনি এবার কান্নাই করে দিলো ভয়ে 😢
পিহু ঃআরে দোস্ত এমন করছিস কেনো? তুই তো ভালোই করবি। বলতে বলতেই আভনির নাম ঘোষণা করে দিলো। আভনি খুশিতে পিহুকে জড়িয়ে ধরলো 😃।
এখন সবার রেজাল্ট দেয়া শেষ এখন যারা ১ ম ২য় ৩য় হয়েছে তাদের স্টেজে ডেকে নেয়া হবে।
প্রথমেই ঘোষণা করলো ৩ য় স্থান অধিকার করেছে পিহু। পিহুকে স্টেজে ডাকা হলো।
এরপর ২ য় হচ্ছে নীলের বোন নীরা । নীরাকেও স্টেজে ডাকা হলো।
আভনি এখন ভাবছে ১ম কে হতে পারে ঠিক তখনই ১ ম স্থানে আভনির নাম ডাকা হলো 😊
আভনি শুনা মাএই 😃চিৎকার দিয়ে এক দৌউড়ে স্টেজে চলে গেলো। 🏃
সবাই বোকার মতো আভনির দিকে তাকিয়ে আছে। নীল স্টেজে তাকাতেই থমকে গেলো, নীলের চোখ পরলো অাভনির উপর। সেই চির চেনা গাঢ় কাজল মাখা চোখ, সেই বাদামী রংয়ের রৌদাজ্জ্বল চুল কি মায়াবি চেহারা মেয়েটার।।
নীল রংয়ের জামায় একদম নীল পরি লাগছে😌আচ্ছা এটাই কি ঐ দিনের সেই মেয়েটা নয়তো 🤔
তবে মেয়েটা ঠিক আমার কল্পনার সেই মনোহরিনী রাজকন্যার মতো😌
নীল আবার তাকাতেই দেখে আভনি স্টেজ থেকে নেমে যাচ্ছে। নীরা নীলের কাছে আসতেই আভনিকে দেখিয়ে বললো,
নীলঃঐ মেয়েটার নাম কি আভনি? ও তো তোকে রেখে তোর আগে চলে গেলো 😏
নীরা ঃ হুম ওর নাম আভনি। আমার সাথেই পড়ে, খুব ভালো ছাএী। আমার ওকে খুব ভালো লাগে 😊
নীলঃতাই ☺
নীরা ঃহুম ভাইয়া আভনির মতো একটা মেয়েকে তোমার বউ বানাবো কেমন?😊
নীলঃতাহলে চল ওকেই তোর ভাবি বানিয়ে ফেলি😉
নীরা ঃওকে বলতে বলতেই দেখে নীল আভনির দিকে ছুটে যাচ্ছে। কিন্তু নীল যাওয়ার আগেই আভনি গাড়িতে উঠে চলে গেলো। নীল মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। নীরা পেছন থেকে এসে কাধে হাত রেখে বললো,
কোনো বেপার না আমি আছি তো 😌আমি ওকে খুঁজে দেবো বলেই নীলের গাল টেনে দিলো।
নীলঃসত্যি? আবার বাসায় বলবি না তো? 😫
নীরা ঃনা😊
নীলঃতাহলে তো তোকে ট্রিট টিতে হয়🤔
নীরা ঃতাহলে চলো আমরা ফুসকা খেয়ে আসি 😋
নীলঃওকে চল।
নীল নীরাকে নীয়ে ফুসকা খেতে গেলো।
নীলঃমামা দুই প্লেট ফুসকা দেন তো। নীরা ফুসকা খাচ্ছে।
নীল ফুসকা মুখে দিতেই নীলের গালে ঠাস,ঠাস দুইটা থাপ্পড় পরলো 😠😠
To be continue
3 months ago (May 28, 2019) 216 Views
Report

About Author (11)

Author

I'm student, i read in cls 11 of kalatiaUniversity college . Group of science. & i love to written for story.

image

comment closed

Related Posts

click for Home page



Fb page image