Jana Ojana Totthoপাখির রংপাখির রং কেন রঙ্গিন হয়পাখির রং নীল করেপাখির রং লাল কেন

পাখির রং কেন রঙিন হয়

যুগে যুগে হরেক রকমের পাখি এবং তার উড়াউড়ি আমাদের ভাবিয়েছে এবং এখনও পাখির বৈচিত্র্য আমাদের ভাবায়  । সেই শিরোনামহীনের ‘একা পাখি বসে আছে’ লালনের ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ কিংবা পাখি নিয়ে কত গল্প, কত কবিতা, কত গান।
আচ্ছা নানান ধরণের পোকারাও তো প্রায় সময় উড়ে, কিন্তু পাখিদের মতো পোকাদের নিয়ে কি ততটা আমরা ভাবি?
পাখিদের নিয়ে ভাবার আর আমাদের ভালোলাগার মূল কারণ হল পাখির সৌন্দর্য। আর বর্ণবিন্যাস হল পাখির সৌন্দর্যের অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ মাত্রা। 
পাখিরা এত রঙিন কেন হয়? কিভাবে পাখিরা তাদের হলদে কিংবা লালচে রং ধারন করে?



কারণ পাখিদের খাবারের বিভিন্ন পিগমেন্ট তথা বর্ণকণিকা । তবে প্রায় লোকদের প্রশ্ন ছিল, কিভাবে পাখির নীল রংটা আসে তাহলে? রং তো শুধু কোন খাবার থেকে আসেনা। কারণ নীল বর্ণকণিকা প্রকৃতিতে বেশ দুর্লভ আবার নীল বর্ণকণিকা যেসব খাবারে থাকে সেগুলো হজমের সময়ই নষ্ট হয়ে যায় যেমন ব্লুবেরী ।
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা তত্ত্ব দিয়েছেন, যে কারনে আকাশের রং নীল- ঠিক সেই একই কারনে পাখির পালকও নীল হয় !
আকাশ নীল কেন বা আকাশের রং নীল কেন হয়?

সূর্য থেকে নানান ধরণের বর্ণের নানা রঙের আলো আসে, সাদা রঙে প্রকৃতির সকল রং ই বিদ্যমান, সূর্য থেকে বিক্ষিপ্ত আলোর মধ্যে অনান্য বর্ণের আলোর থেকে নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই নীল বর্ণের আলোর বিক্ষেপন সবচেয়ে বেশি। তাই মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ দিনের বেলায় নীল বর্ণের দেখায়।
ইয়ালের একজন পরীক্ষবিশারদ রিচার্ড প্রাম এবং রিচার্ড প্রামের দল অনেক নীল বর্ণের পাখিদের পালক নিয়ে গবেষণা করেন।
তখন তিনি দেখতে পান, পাখিদের নীল পালকের বিকাশের সাথে সাথে অসাধারণ অবাক করার মত ঘটনা ঘটে।
সূত্রাকার কেরাটিন অণু পাখির পালকের কোষের ভেতরে পানি থেকে আলাদা হয়ে যায়, ঠিক এটি যেন ভিনেগার থেকে তেল আলাদা হয়। পানির অংশটা বাতাস দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে ক্ষুদ্রাকার বুদবুদ যুক্ত কেরাটিন প্রোটিনের গঠন তৈরি হয় পাখির পালকের কোষগুলো পরিণত হয়ে শুকিয়ে যাওয়ার পর স্পঞ্জের মত ।
পাখিদের সৌন্দর্যের অংশ তাদের গায়ের রঙের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে।
বিজ্ঞানীরা বলছে পাখির গায়ের রং তার সঙ্গীকে কাছে টানে। তবে পাখিদের গায়ের রং লাল কেন হয় তা সম্প্রতি গবেষনায় উঠে এসেছে।
কারেন্ট biology সাময়িকীতে প্রকাশিত পৃথক দুই গবেষণাপত্রে ছিল, পাখির রঙের ওপর এমন বৈচিত্র্যময় প্রভাবের কারণ শরীর বিষমুক্ত রাখার জন্য দায়ী কিছু জিন। তার মানে পাখির শরীরের লাল রং তাদের শরীরের ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ করে ও অন্য পাখির আকর্ষণ বাড়ে এবং শক্তসমর্থ রাখে।
আমেরিকার সেন্ট লুইসে অবস্থিত ওয়াশিংটন ইইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক যোসেফ কোরবো বলেন, প্রায় প্রজাতির পুরুষ পাখিরা সঙ্গিনী খুঁজে পেতে তত তাড়াতাড়ি সফল হয় যা বেশি পুরুষ পাখির রং লাল হয়।
জেব্রা ফিঞ্চ ও ক্যানারি বার্ড নামের পাখিরা নানা রকমের পোকামাকড়, ফলমূল, বীজ খায়। 
তাদের শরীরে ক্যারোটিনয়েড নামক হলদে রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়।  এই হলদে অণুগুলোকে লাল রূপ দিতে পারে কিছু পাখি , যাকে নাম কেটোকেরোটিনয়েড বলে। এ ক্ষেত্রে নিজেদের চোখে সক্রিয় কিছু এনজাইম ব্যবহার করে লাল ও হলদে পাখিরা । একই প্রক্রিয়ায় তাদের ত্বক ও পালকও লাল হয়ে যায়।
আমেরিকার কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিদ নিক মান্ডি বিস্ময়কর ব্যাপার বলেন,  যে জিন ওই পাখিদের শরীরের রং বদলাতে সাহায্য করে ঠিক সেই জিনের কারণে পাখিরা লাল রং দেখতে পায়।
পর্তুগালের পোর্তো ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী অপর গবেষণা দলের সদস্য মিগুয়েল কার্নেরিও বলেন, পাখির খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর করে পাখির নিজ শরীরের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতি ।
সুতরাং পাখির নানা রঙের ধারাবাহিক পরিবর্তনে পাখিদের খাবার বা খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র : বার্ডস সায়েন্স, birds science
এরকম নিত্য নতুন তথ্য জানতে HelpBangla.com নিয়মিত ভিজিট করুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button